কেস স্টাডিজ

“ আমি সিধান্ত নিতে পারি না , আমি শুধু পরামর্শ দিতে পারি” মোহন আচার্য

ছবি ©: সেভ দি চিলড্রেন

মোহন লালের বয়স ৩৪ বছর । মাত্র এক্ সপ্তাহ আগে মোহন এর  স্ত্রী মায়া ( ২৭) এর প্রথম  সন্তান  হয়েছে । যদিও তারা একটি কন্যা সন্তান এর আশা করেছিল তবে তারা একটি সূস্থ্য স্বাভাবিক ছেলে  সন্তান পেয়ে অনেক খুশি। একটি কন্যা বা পুত্র সন্তান পাবার আনন্দ পৃথিবীর কোন কিছুর সাথে তুলনাযোগ্য না । মোহন ও তার স্ত্রী অনেক বেশি আনন্দিত ।

এসব দেখে মনে হচ্ছে এটা একটা আদর্শ গল্প , কিন্তু আসলেই কি তাই ?  এই দম্পতি অনেক বেশি চড়াই উৎরাই এর মধ্যে দিয়ে  গেছে শিশুটি জন্মগ্রহনের আগ পর্যন্ত । মোহন এবং তার স্ত্রী যথেষ্ট শিক্ষিত  এবং আধুনিক । যদিও কিছু ব্যাপারে তাদের মধ্যে সিধান্ত গ্রহন নিয়ে ঊনাদের মধ্যে অনেক মতবিরোধ আছে। মায়া গর্ভধারণের  অনেক আগে থেকেই সিজারিয়ান এর সিধান্ত নিয়েছে যেখানে মোহন এর চিন্তা  ছিল এটার বিরুধ্যে।  যদিও মায়া অনেক কিছু শুনেছিল  স্বাভাবিক ডেলিভারিতে অনেক অসহ্য ব্যাথা , অনেক রক্ত আর ব্যাথাটা অনেক দিন থেকে যাওয়ার কথা।   মায়া তার বান্ধবীদের কাছে শুনেছিল সিজারিয়ান এ কোন কষ্ট হয়না, কোন ব্যাথা হয়না, কোন সমস্যা হয়না এবং এটা তার কাছে একটা খুব স্বাভাবিক ও নিরাপদ পদ্ধতি মনে হয়েছে ।
মোহন এবং তার স্ত্রী একমত হতে পারছিলনা এই বিষয়টা নিয়ে। মোহন তার স্ত্রীকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছে  এবং অনুপ্রানিত করার চেষ্টা করেছে স্বাভাবিক ডেলিভারি করানোর জন্যে।

ডেলেভারির তারিখের  কাছাকাছি এসে মোহনের স্ত্রীর কাছে  সিজারিয়ান ডেলেভারিটাই   সবচেয়ে ভাল  পদ্ধতি মনে হয়।
“এটা আমার সিধান্ত নয়,  শিশুটাকে  সে বহন করছে। আমি শিশুটার বাবা , আমি শুধু চেষ্টা করতে  পারি  এবং তাকে পরামর্শ দিতে পারি। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তার কাছে যেটা সবচেয়ে সুবিধাজনক মনে হবে সেটাই সে গ্রহন করবে “ মোহন বলেন । মোহন অনেক কিছু চেষ্টা করেছে ডাক্তার দেখানো এবং ডাক্তারের পরামর্শ  নেয়া তার মধ্যে একটা । যদিও সে ব্যর্থ হয়েছে কারন যেখানে ডাক্তাররায় স্বাভাবিক ডেলেভারি এরচেয়ে সিজারিয়ান ডেলেভারি এর প্রতি বেশি আগ্রহি।

“আমার কাছে  মনে হয়েছে এখান কার ডাক্তাররা স্বাভাবিক  ডেলেভারি এর চেয়ে সিজারিয়ান বেশি পছন্দ করেন ।এখানে  আমার ৭০০০০/= টাকা খরচ হয়েছে এবং রাত করে হাসপাতালেই থাকতে হয়েছে। একটা সময় ভাবছিলাম এজন্যেই কি  ডাক্তারদের বা হাসপাতাল্গুলোর সিজারিয়ান করানোর জন্যে এত আগ্রহ?”” বলছিলেন মোহন লাল।  

 [বি.দ্রঃ গোপনীয়তার স্বার্থে ব্যক্তির আসল নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। ]

হটলাইন নম্বর
xxxxx