কেস স্টাডিজ

নেদারল্যাণ্ডসে ডেলিভারি

ছবি  ©  : গুগল

“গর্ভকালীন সময়ে শারীরিক ব্যথা-বেদনা, দুর্বলতা এসব নিয়ে আমার সবসময় সমস্যা ছিল। আমার গর্ভে তখন আমার ৩য় সন্তান। এরকম পরিস্থিতিতে মানসিক অবস্থাও নিজের আয়ত্তে থাকেনা। আমি একসময় প্রায় সহ্যক্ষমতা হারিয়ে চিন্তা করছিলাম যে মার্চের ২৩ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার ধারনাই ছিলোনা যে এ আশাও পূর্ণ হবে।

আমি তখন ৩৮ সপ্তাহ এবং ৫ দিনের একজন গর্ভবতী। ঘটনার দিন হঠাৎ সকালে খুব অসস্থিকর অবস্থায় ঘুম ভেঙে যায়। ঘণ্টা কয়েক পর আমার পেটে ব্যথা অনুভব করতে থাকলাম। তখন আমার ছোট ২ মেয়ে শুধু বাড়িতে ছিল, তাই আমি আমার সমস্যার কথা আমার স্বামীকে ফোনে কল করে জানাই। আমি বুঝতেই পারিনি যে আমার প্রসব বেদনা হচ্ছিল। ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে আমি আমার পূর্বপরিচিত একজন মিডওয়াইফকে (ধাত্রী) জানাই এবং তিনি ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়িতে চলে আসেন, কিছুক্ষণের মধ্যে আমার স্বামীও বাড়িতে চলে আসলো।

আমার পানি ভেঙে গেল কিন্তু অবস্থার ততটা উন্নতি হচ্ছিল না। আমার মিডওয়াইফ আমার অবস্থা দেখে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেন। একটি ট্যাক্সি নিয়ে আমরা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেখানকার কর্মীরা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন এবং আমাকে নির্ভয় রাখতে প্রতিনিয়ত সাহস দিতে লাগলেন। আমার ব্যথা ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করল এবং সে মুহূর্তে মনে হচ্ছিল যে আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছেনা, আমি মনেহয় ভেঙে পড়ছিলাম। ব্যথা অসহনীয় আকার ধারণ করে এবং উক্ত সময় আমার আর চারপাশের কিচ্ছু মনে ছিলোনা। আমি শুধু বার বার ডাক্তারকে বলছিলাম কোনভাবে যদি সি-সেকশন করান সম্ভব হয় তাহলে যাতে তাই করা হয়। ডাক্তার আমাকে অনেক শান্ত করার চেষ্টা করলেন এবং বার বার বললেন যে আমি অনেক ভাল অবস্থায় আছি এবং আমি স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারব। আমার মিডওয়াইফও আমার পাশে ছিলেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। অতঃপর আমি ব্যথা নিবারণের জন্য এমন ঔষধ চাচ্ছিলাম যা আমাকে অচেতন করবে না। ডাক্তাররা পরবর্তীতে ব্যথার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাকে এক শট প্যাথেডিন ইঞ্জেকশন দিলেন।

যদিও ইঞ্জেকশনের পর প্রসব বেদনা ততটা নিবারণ হয়নি তবুও অল্প কিছুক্ষনের জন্য তা আমাকে খানিকটা স্বস্তি দিল। আমার স্বামী, মিডওয়াইফ এবং হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সেরা তখন আমার সাহসের উৎস হিসেবে কাজ করলেন। তারা আমার পাশে থেকে যেভাবে আমাকে মানসিক শক্তি যুগিয়েছেন তা অবর্ণনীয়। তাদের কারনেই আমি বিকাল ৪ টার সময় সুস্থ স্বাভাবিকভাবে আমার পুত্র সন্তানকে জন্ম দিলাম। আমার সন্তান কিছুটা মেকোনিয়াম খেয়ে ফেলায় তার শ্বাস নিতে খানিকটা কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু কিছু প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা দেওয়ার পরক্ষনেই আমার কোলে দেওয়া হলে শিশুটি কেঁদে উঠল। আমি এখন ৩ সন্তানের মা। হাসপাতালের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা সন্ধ্যা ৭:৪৫ এর দিকে বাড়িতে ফেরত আসলাম। আমাদের কিছু বন্ধু-বান্ধব আমাদের ২ মেয়েকে ডে-কেয়ার সেন্টার থেকে নিয়ে সোজা আমাদের বাসায় নিয়ে এল। ছোট্ট ভাইকে পেয়ে আমাদের ২ মেয়ে এখন অনেক খুশি।“ – মারিয়া লাপা, বয়স ৩৭।

[বি.দ্রঃ গোপনীয়তার স্বার্থে ব্যক্তির আসল নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। ]

হটলাইন নম্বর
xxxxx