কেস স্টাডিজ

একজন কর্মজীবী মা এর গল্প

ছবি © : সেভ  দি চিলড্রেন

বিয়ের ৪ বছর পর তাহমিনার গর্ভে একটি সন্তান আসে । একজন পুরোদস্তুর কর্মজীবী নারী হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত তার কর্মক্ষেত্র এবং বাড়ির মধ্যে ব্যস্ত জীবন অতিবাহিত করতে হয় । এজন্য তাহমিনা যখন গর্ভবতী হলেন , তখন তিনি জানতেন যে মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে যোগদানের আগে নিজের যত্ন নেয়ার জন্য এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অনেক কম সময় পাবেন । যদিও তিনি পুরো ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছিলেন, কিন্তু এর পরে আর ছুটির সময়সীমা বাড়াতে চাচ্ছিলেন না এই ভয়ে যে তার চাকরির প্রমোশনে (পদোন্নতিতে) যাতে কোন বাধা না পরে, যা কিনা তার ক্যারিয়ারকে অনেক সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে ।

তাহমিনার ডেলিভারির সময় তিনি এবং তার স্বামী হাসপাতালে গেলেন । তারা চাচ্ছিলেন যাতে নরমাল ডেলিভারি করাতে । তাহমিনা বলেন- “ আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে চাচ্ছিলাম। লোকমুখে শুনেছি সিজারিয়ান সেকশনের পরে মায়েদের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমি সেটি চাইনি ।“  ডাক্তার তাহমিনাকে অক্সিটোসিন নামের একটি ওষুধ দিলেন যা প্রসব প্রক্রিয়া তরান্বিত করে বাচ্চাটিকে নিচের দিকে নেমে আসতে সাহায্য করবে এবং এতে করে স্বাভাবিকভাবে ডেলিভারি করা সম্ভব হবে । তাহমিনা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন । এখন শুধু অপেক্ষা ছিল কিছু সময়ের যখন ধীরে ধীরে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

পরক্ষণে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে ডাক্তার তাকে জানালেন যে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট অনুযায়ী তাহমিনার অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িড এর সাথে গর্ভের শিশুর মেকোনিয়াম (শিশুর মল) মিশে গেছে । তাহমিনা জানান- ‘’ডাক্তার আমাকে আরও বললেন যে বাচ্চা জন্মের আগ মুহূর্তে যদি মেকোনিয়াম এবং ফ্লুয়িডের মিশ্রণ তার ফুসফুসে ঢুকে যায়, তাহলে তা বাচ্চার শ্বাসনালীকে আংশিক কিংবা পুরোপুরিভাবে আটকে দিতে পারে । ‘’

এই অবস্থায় একজন নবজাতকের বাবা-মায়ের মধ্যে অবশ্যই নানা ধরণের দুশ্চিন্তা ও ভয় জাগতে পারে । সে সময়ে ডাক্তারদের পরামর্শ মতে নরমাল ডেলিভারির সম্ভাব্য বিপদ এড়ানোর জন্য তাহমিনার সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।

তাহমিনা একটি সুস্থ সুন্দর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন এবং তিনি নিজেও বেশ তাড়াতাড়ি সার্জারি পরবর্তী জটিলতা থেকে সুস্থ হয়ে যান। যদিও তার প্রায়শই সার্জারির ব্যথা অনুভূত হয় এবং এর কারণে তাকে কাজ থেকে ছুটি নিতে হয়। তাহমিনা আশা করেন এত কিছুর মধ্যেও যেন তার ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন হারিয়ে না যায়।

(বিঃদ্রঃ গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা নাম, পরিচয় গোপন রেখেছি। ব্যবহৃত নাম ও ছবি কাল্পনিক)

হটলাইন নম্বর
xxxxx